মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বাড়তি শুল্ক দেশটির সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চুক্তির বর্তমান অবস্থা বা ‘স্ট্যাটাস’ জানতে চেয়ে ওয়াশিংটনকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আগামী সোমবারের মধ্যে এই চিঠি পাঠানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানায়, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট এককভাবে কোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। এই রায়ের ফলে ট্রাম্পের বিশেষ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা খর্ব হয়েছে। অথচ গত ৯ ফেব্রুয়ারি এই আইনের অধীনেই বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) সই হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১৯ শতাংশ সম্পূরক শুল্কসহ মোট ৩৪ শতাংশ শুল্ক নির্ধারিত ছিল।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “আদালতের রায়ে তাদের পাল্টা শুল্ক দেওয়ার ক্ষমতা খর্ব হয়েছে। এখন আমাদের চুক্তির অবস্থা কী হবে, তা স্পষ্ট করতে আমরা ইউএসটিআর-কে (ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) মেইল করব। তবে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান অন্য আইনগুলো (১২২, ২৩২ বা ৩০১) অনুযায়ী গড়ে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ হতে পারে। বিষয়টি আগামী ২৪ তারিখের মধ্যে পরিষ্কার হতে পারে।”
ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজের পাশাপাশি গম, তুলা ও সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তিকে বড় সাফল্য হিসেবে দাবি করলেও বিভিন্ন মহলে এর কঠোর শর্তাবলি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। তবে বাণিজ্য সচিব এই সমালোচনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, “চুক্তিটি আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুকূল ছিল। বিশেষ করে তুলা আমদানির বিষয়টি আমাদের পক্ষে ছিল। এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম আইন মানা বা মেধাস্বত্ব অধিকার বাস্তবায়নের মতো যে বিষয়গুলো চুক্তিতে আছে, তা আমরা আগে থেকেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) অঙ্গীকার করে আসছি।”
মার্কিন আদালতের এই নতুন রায়ের পর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কের সমীকরণ কোন দিকে যায়, তা নিয়ে এখন ব্যবসায়ী ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে। সোমবার সরকারের পাঠানো চিঠির উত্তর পাওয়ার পর এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।