বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে আইনজীবী শিশির মনির ও জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তার বক্তব্যটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামির পক্ষে আইনি লড়াই করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ মামলায় আসামিপক্ষের হয়ে আর আইনি লড়াই করবেন না।
রাশেদ খান তার পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, আবরার হত্যার পর শিশির মনিরদের ভূমিকা কী ছিল এবং তারা কেন নীরব ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি শিশির মনিরদের ‘আবরার ফাহাদের খুনি ছাত্রলীগের পক্ষের কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে দাবি করেন, সে সময় ‘ছাত্রশিবির ছাত্রলীগ হয়ে বেঁচে ছিল’।
আবরারকে শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তকমা দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল—এমন প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, হত্যার বিচারের দাবিতে তৎকালীন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল হয়েছিল। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের আন্দোলন-সংগ্রামে নুরুল হক নুরের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
রাশেদ খান আরও দাবি করেন, আন্দোলনের কঠিন সময়ে বর্তমান ছাত্রশিবিরের ভিপি-জিএসদের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা তখন হল ও বিভাগ পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে ছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকে নুরুল হক নুরকে নিয়ে সমালোচনারও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নুরুল হক নুরের ভূমিকা জামায়াত-শিবিরের সম্মিলিত ভূমিকার চেয়ে বেশি ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, আবরার ফাহাদকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী দণ্ডিত হন। আবরারের রাজনৈতিক পরিচয় ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক থাকলেও এসব বিষয়কে হত্যাকাণ্ডের ন্যায্যতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।