বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
বুধবার রাজধানীর চাঁন কমিউনিটি সেন্টারে ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে আহলা দরবার শরীফ আয়োজিত ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর সেমিনার ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, মহানবী (সা.)-এর আগমন সারা বিশ্বের জন্য শান্তি ও মানবতার বার্তা নিয়ে এসেছে। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই পৃথিবীতে কল্যাণ, মানবতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। অতীতের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে তৈরি হওয়া এসব সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়।
পুরান ঢাকার জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এর অন্যতম কারণ। জলাবদ্ধতা নিরসনে সাময়িক পদক্ষেপের পরিবর্তে পানি দ্রুত বুড়িগঙ্গায় নিষ্কাশনের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-বিল, পুকুর ও খোলা জায়গা দখলের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের নিজেদের বাসাবাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত করে এলাকাটিকে আরও সুন্দর ও পর্যটনবান্ধব করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা নদী পরিষ্কার করার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ, ঘুড়ি ওড়ানো, সাইকেল চালানো, কাওয়ালি ও কাসিদার মতো সাংস্কৃতিক আয়োজন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নতুন প্রজন্মকে পুরান ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করতে সপ্তাহে দুই দিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে ভ্রমণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মধ্যে আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, শহীদ মিনার, বড় কাটরা ও তারা মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শনের কথা জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।