রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সিজারিয়ান অপারেশনের পর গৃহবধূ কণিকা মণ্ডলের (৩৫) মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে কণিকা মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত ৭ জুলাই অস্ত্রোপচারের পর কণিকার পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রয়ে যায়। পরবর্তীতে শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে অন্য হাসপাতালে সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত হয়। পরে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়। এরপরও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কয়েকদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৯ আগস্ট তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর কণিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ কোনোভাবেই উপেক্ষা করা হবে না। তদন্তে কারও গাফিলতি বা দায়িত্বহীনতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
তবে কণিকার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ ঘটনায় অস্ত্রোপচারের সময় ব্যবহৃত গজ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের হিসাব, অপারেশন-পরবর্তী নিরাপত্তা প্রটোকল এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া চিকিৎসা সিদ্ধান্তসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে গজ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য উপকরণের হিসাব নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা রোগীর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে হাসপাতালগুলোর অস্ত্রোপচার-সংক্রান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।
কণিকা মণ্ডলের মৃত্যুতে একটি পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায় নির্ধারণের পাশাপাশি রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই সংশ্লিষ্টদের প্রধান দায়িত্ব।