জয়পুরহাট, চুয়াডাঙ্গা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশে লোক ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) পৃথক তিনটি চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবির কড়া অবস্থানের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এ ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে সাত স্তরের বিশেষ নজরদারি চালু করা হয়েছে।
জয়পুরহাটে বৃদ্ধকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জি ইউনিয়নের হাটখোলা সীমান্তে সোমবার (১৫ জুন) এক ভারতীয় বৃদ্ধকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। সকাল ৮টার দিকে ২৭৯ নম্বর প্রধান পিলারের ২০ ও ২১ নম্বর উপপিলার এলাকা দিয়ে ওই চেষ্টা চালানো হয়।
বিজিবি ও স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে সীমান্তের শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখে। দিনভর উত্তেজনার পর রাত ৯টার দিকে ভারতের মথরাপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাকে নিজেদের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গায় সাত স্তরের নিরাপত্তা
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা-জয়নগর সীমান্ত দিয়ে গত ১৪ জুন ভোরে ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। গেদে ক্যাম্পের সদস্যরা পাঁচ নারী ও ছয় পুরুষকে জিরো লাইনের ৭৬/৭৭ নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয় জনতা তা প্রতিহত করে।
এর পর থেকেই জেলার ১৪৫ কিলোমিটার সীমান্তে সাত স্তরের নজরদারি চালু করা হয়েছে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসী, গ্রাম পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, কমিউনিটি পুলিশ ও জেলা পুলিশ যুক্ত রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সীমান্তে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং আপাতত সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশি কৃষকদের চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
রোকনপুর সীমান্তে তিন দিনে দ্বিতীয় চেষ্টা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে তিন দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। সোমবার গভীর রাতে ভারতের ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ নৌকাযোগে ওই নারীকে সীমান্ত পার করার চেষ্টা চালায়।
তবে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) সদস্যরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে পুশইন প্রতিহত করে। পরে ওই নারীকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন একই সীমান্ত দিয়ে ১৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। সেবারও বিজিবির বাধার মুখে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় ভারতীয় বাহিনী।