আজ ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দীর্ঘ রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলটি পঞ্চমবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় দলটির নেতৃত্ব দেন। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপি পাঁচবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে এবং বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরেও ছিল। এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রেক্ষাপটে দলটির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করা।
বিএনপির নেতারা বলছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা দলটির রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি। প্রতিষ্ঠার সময় দলটি ১৯ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। এবারও জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, জনগণের ঐক্য ও কল্যাণের রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এটিই বিএনপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের ঐক্য ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা এবং তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য বড় দায়িত্ব। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নও নতুন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের অর্থনীতি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, সংস্কৃতি, নির্বাচন ব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন, কার্যকর ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং বিদ্যুৎ ও পানি খাতে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিএনপির জন্য এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হলো রাষ্ট্র পরিচালনা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বাড়ানো, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনী ম্যান্ডেটকে কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনায় রূপ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি
৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেরেবাংলানগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে বিএনপি। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা হবে।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা সভা, সারা দেশে বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্ত কর্মসূচি পালন করা হবে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।