নৈতিকস্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিলের ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি। তবে এখনো তার এমপি পদ বাতিল হয়নি।
বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় কারাগারে রয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলের অভ্যন্তরীণ তদন্তে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে নৈতিকস্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তার সদস্যপদ বাতিলের জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গাজী নজরুলকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। পরে তিনি ভিডিওতে থাকা নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বলে দাবি করেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার কিছু বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে এক মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ ও ইসলামবিদ্বেষী বলার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা ও আদালতের সমন জারির কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জামায়াতের কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারি অনুদান, ত্রাণ বিতরণ ও স্বজনপ্রীতি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পর দলটির পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যদের সরকারি অনুদান, ত্রাণ বা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন, ব্যক্তিগত সহকারী ও তাদের স্বজনদের জন্য সুপারিশ বা বরাদ্দ না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বলছেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে পুরো দলের অবস্থান মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, অনৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াত আপসহীন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুমও দাবি করেছেন, কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর কেন্দ্র থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের পাশাপাশি তার সংসদ সদস্যপদ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, জামায়াতের ঘোষিত নীতি ও নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কয়েকজন নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অসামঞ্জস্য দলটির জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তবে অভিযোগের পর দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়াকে তারা ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন।
গাজী নজরুল ইসলাম ছাড়াও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানে নিজের মেয়ের নামে অর্থ বরাদ্দ এবং রংপুরের পীরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীনের বিরুদ্ধে টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে আত্মীয়দের সভাপতি করার অভিযোগের বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য দিয়েছেন।
জামায়াতের দাবি, দলের কোনো নেতা বা সংসদ সদস্য অনৈতিকতা, স্বজনপ্রীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িত হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দলটি বলছে, ব্যক্তির কোনো অভিযোগ বা বিতর্কের দায় পুরো দলের ওপর চাপানো সমীচীন নয়।