লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আক্তার হোসেন মিলন নামে এক সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। সদস্যপদের ফরম পূরণের মাধ্যমে তাকে দলে বরণ করে নেওয়া হয়।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসার অফিসকক্ষে এ যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহর উপস্থিতিতে সদস্যপদের ফরম পূরণ করেন আক্তার হোসেন মিলন। পরে জামায়াত নেতারা তাকে ফুল দিয়ে দলে স্বাগত জানান।
জানা গেছে, আক্তার হোসেন মিলন হাজিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তিনবার নির্বাচন করলেও কখনো নির্বাচিত হননি।
তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষে রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কমলনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষ রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই শিক্ষকও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন নীতিগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। তাদের দাবি, যোগদান অনুষ্ঠানের সময় মাদরাসার বর্তমান অধ্যক্ষও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাস্থলে হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসার বর্তমান অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন, সাবেক অধ্যক্ষ জায়েদ হোসাইন ফারুকী, জামায়াত নেতা হুমায়ুন কবির এবং মাতাব্বরনগর ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আলী হোসাইনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মাদরাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কমলনগর উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা হুমায়ুন কবির বলেন, আক্তার হোসেন মিলন জামায়াতের নীতি-আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বেচ্ছায় দলে যোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে আক্তার হোসেন মিলন বলেন, “এখন বয়স হয়েছে। জীবনের বাকি সময় জামায়াতের সঙ্গে কাটাতে চাই। এখানে আমার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য নেই।” তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়েছিল এবং সেই পদ থেকে তিনি কোনো সুবিধা নেননি।