সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের গুলি করে হত্যার ঘটনা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের নয়, ঘটেছিল ১৯৯৫ সালের মার্চে। তবে জাতীয় সংসদে সার সংকট নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং বিএনপি থেকে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ঘটনাটিকে ২০০১-০৬ সালের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
এ ছাড়া চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি দাবি করেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মতিউর রহমান নিজামী কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। যাচাইয়ে এই দাবিটিও সঠিক নয়।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সার সংকট নিয়ে বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো পরিস্থিতিতে এক বস্তা সারের পরিবর্তে কৃষকদের গুলির মুখে জীবন দিতে হয়েছিল।
পরে তার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি যখন সরকারে ছিলেন, তখন মতিউর রহমান নিজামী কৃষিমন্ত্রী ছিলেন এবং ওই সময় কৃষকরা গুলিতে নিহত হন।
তবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দেখা যায়, সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের নিহত হওয়ার বহুল আলোচিত ঘটনাটি ১৯৯৫ সালের মার্চে ঘটে। ওই সময় সার, জ্বালানি তেল, কীটনাশক ও কৃষিপণ্যের সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা আন্দোলন করেন।
বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালের মার্চে জামালপুর, গাইবান্ধা, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। এতে একাধিক কৃষক নিহত হন। ওই মাসে সারা দেশে অন্তত ১২ জন কৃষক নিহত হওয়ার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালের ওই ঘটনার সময় কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা মেজর জেনারেল (অব.) এম. মজিদ-উল হক। তিনি ১৯৯১ সালের ১ মার্চ থেকে ১৯৯৫ সালের ২৭ জুন পর্যন্ত কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। ফলে ১৯৯৫ সালের সার আন্দোলনের সময় মতিউর রহমান নিজামী কৃষিমন্ত্রী ছিলেন না।
এদিকে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্তও পুরো সময় মতিউর রহমান নিজামী কৃষিমন্ত্রী ছিলেন না। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ২২ মে পর্যন্ত কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৩ সালের ২২ মে থেকে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির এম. কে. আনোয়ার।
অর্থাৎ, ২০০১-০৬ মেয়াদের প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে নিজামী প্রায় দেড় বছর কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বাকি সময়ে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এম. কে. আনোয়ার।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ সংসদে বক্তব্যে ২০০১-০৬ সালের সঙ্গে কৃষক নিহতের ঘটনাটি যুক্ত করলেও তার বক্তব্যে উল্লেখ করা সারের দাবিতে কৃষক নিহত হওয়ার ঘটনার সঙ্গে ১৯৯৫ সালের মার্চের সার আন্দোলনের ঘটনাই মিলে যায়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।