দলীয় নেতৃত্বকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর দুই স্থানীয় নেতা। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তারা ফেসবুক পোস্ট মুছে দিয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) নিজ নিজ ফেসবুক আইডিতে ক্ষমা চান রৌমারী উপজেলা জামায়াতের ‘আবু সাঈদ ইউনিট’-এর সভাপতি মো. মাহবুব আলম ও সাধারণ সম্পাদক শইমী ইমরান হিকিম।
এর আগে রোববার শইমী ইমরান হিকিম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ‘আমিররাও ভাগ খায়; ভাগ পায়...’ লিখে একটি পোস্ট দেন। একই পোস্টে উপজেলা জামায়াতের আমির মো. হায়দার আলীকে উদ্দেশ্য করে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন ইউনিট সভাপতি মাহবুব আলম।
পোস্টটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে দুই নেতা তাদের পোস্ট ও মন্তব্য মুছে দিয়ে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন।
ক্ষমা চেয়ে শইমী ইমরান হিকিম জানান, তার পোস্টটি উপজেলা আমিরকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়নি। তবে মন্তব্যের কারণে ভিন্ন বার্তা যাওয়ায় তিনি সংগঠনের আমিরসহ সব নেতাকর্মীর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকারও অঙ্গীকার করেন তিনি।
অন্যদিকে মাহবুব আলম বলেন, তার মন্তব্যের ভাষা ও শব্দচয়ন দলীয় আদর্শ ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি। এতে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি দুঃখিত এবং সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
রৌমারী উপজেলা জামায়াতের আমির মো. হায়দার আলী বলেন, দুই নেতা রাতে সরাসরি তার কাছে এসে ক্ষমা চেয়েছেন। পরে তিনি তাদের ফেসবুকেও ক্ষমা চেয়ে পোস্ট দেওয়ার বিষয়টি দেখেছেন।
কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন জানান, তারা পোস্ট মুছে ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চেয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে কীসের ভিত্তিতে তারা এমন মন্তব্য করেছেন, তা সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।