গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছিল। এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিআইডি। পরে যাচাই-বাছাই করে জানা যায়, সেগুলো পলাতক ফোরকানের।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পদ্মা নদী থেকে একটি ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ফোরকান মিয়ার কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামে একটি বাড়ি থেকে এক নারী, তার তিন মেয়ে ও ভাইসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন— গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাৎ হোসেন মোল্লার মেয়ে শারমিন আক্তার (৩০), শারমিনের মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), মোসা. ফারিয়া (২) ও ভাই রসুল মিয়া (২২)।
পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া বছরখানেক আগে রাউতকোনা গ্রামের ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। ফোরকানের বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।
ঘটনার পর নিহত শারমিন আক্তারের বাবা ফোরকান মোল্লাকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গত ১১ মে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক ময়নাতদন্ত শেষে জানান, পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে এবং দেড় বছরের এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের আগে তাদের চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা জানতে নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।