শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে কোনো ধরনের হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ না হয়ে সহজে অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। কোনো ভোগান্তি থাকবে না এবং মধ্যস্বত্বভোগীদেরও প্রয়োজন হবে না।
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে অবসর ও কল্যাণ ভাতার টাকা পেতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ছিল। বর্তমানে সহজে শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকদের অবসর ভাতার ফান্ডে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধ করা হচ্ছে। অবসর নিলেও শিক্ষকরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে সুবিধাভোগীদের আবেদন iBAS++ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার বকেয়া পরিশোধে সরকার এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। দীর্ঘ চার বছর ধরে জমে থাকা বকেয়া অর্থ দেশের ৬৪ জেলার শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে।
এর আগে গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।