ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে কয়েকটির প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সময়ের বিভিন্ন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ-পদায়ন, টেন্ডার এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো এখনো প্রমাণিত নয় এবং অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
এরই মধ্যে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগে দেশে বিভিন্ন নিয়োগ, পদায়ন, টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি বিদেশে অর্থপাচারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে বিপুল অর্থ পাচার করা হয়েছে। বিদেশে সম্পদ কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। এসব দাবির সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করবে দুদক।
এ ছাড়া সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নূরজাহান বেগমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ জমা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে নিয়োগ-বদলি, প্রকল্প, টেন্ডার এবং বিদেশে সম্পদ অর্জনের বিষয় রয়েছে।
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলেই তা প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। প্রাথমিক যাচাইয়ের পর যেসব অভিযোগের সত্যতা বা গ্রহণযোগ্য ভিত্তি পাওয়া যাবে, সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী অনুসন্ধান ও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলই প্রকৃত তথ্য নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে জমা পড়া সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি উঠেছে।