হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তির স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত নেতা নূরুল ইসলাম সজলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী গত ১১ আগস্ট হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুল হাই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামি নূরুল ইসলাম সজল চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের জারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জারুলিয়া বাজারে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করতেন।
মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী ও সজল একই এলাকার বাসিন্দা। ওই নারী তার প্রতিবন্ধী স্বামী ও সন্তানের জন্য নিয়মিত সজলের দোকান থেকে ওষুধ কিনতেন। এ সুযোগে সজল তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও নানা ধরনের প্রলোভন দেখাতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ৫ আগস্ট রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ওই নারী জানালা খুলে ঘুমিয়ে পড়লে সজল কৌশলে জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন এবং তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন এসে অভিযুক্তকে আটক করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় সজল মুঠোফোনে মিজান মিয়া নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মিজান মিয়া আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে সজলকে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর মামলা না করতে এবং স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিসে না যেতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়ভীতি ও চাপ দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ ওঠার পর নূরুল ইসলাম সজলকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে চুনারুঘাট উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। উপজেলা জামায়াতের আমির ইদ্রিস আলী জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ৬ আগস্ট জরুরি সাংগঠনিক সভায় সজলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে মামলায় করা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম সজলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।