জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. মাহমুদা মিতু বলেছেন, ‘জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে।’ তার দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহীদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করার বিষয়টিকে কেউ ‘ব্যবসা’ বললেও সেটি অব্যাহত রাখা উচিত।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ‘বিএনপি বারবার বলে, জুলাই নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। তারা এভাবে আমাদের অপমান করতে চায়। কিন্তু জুলাইয়ের স্মৃতি ও শহীদদের কথা মানুষের সামনে তুলে ধরা বন্ধ করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোদিবিরোধী আন্দোলনে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। তাদের স্মৃতিও ধরে রাখতে হবে।’
মাহমুদা মিতু বলেন, ‘বিএনপি যদি জিয়া ব্যবসা করতে পারে, তাহলে জুলাই ব্যবসা করতে অসুবিধা কোথায়? আপনারা যেটাকে ব্যবসা বলেন, আমরা সেটাকে স্নেহ, মায়া, মমতা ও দরদ মনে করি। এই দরদ আমরা বাঁচিয়ে রাখব।’
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিষয়টি নিয়ে সরকারি দলও যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। তার ভাষ্য, ‘জুলাইয়ের কথা এনসিপি ও ১১-দলীয় জোট বলে। কিন্তু সরকারি দল অনেক সময় বিষয়টি আড়াল করে রাখে।’
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যেসব শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাদের পরিবারের প্রত্যাশা হলো রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংস্কার, পুলিশ কমিশন ও গুম কমিশন গঠন। আমাদের লড়াই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভয়ভীতি, হামলা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি করে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।’
এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, জাতীয় নারী শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার খালেদা আক্তার, জেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক মো. মুজিব এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির জেলা নেতারা।