ধর্মের নামে বিভাজন ও সাম্প্রদায়িকতা নয়, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে ঢাকা ক্যাথলিক আর্চডায়োসিসের সহকারী বিশপ সুব্রত বি. গমেজের নেতৃত্বে ২৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। এখানে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সমান। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বঞ্চনা বা বৈষম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, দেশে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরাবির্ভাব কেউই চায় না। এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সাক্ষাৎকালে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন বিষয় ও যৌক্তিক সমস্যার কথা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন এবং সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। হলিক্রস, সেন্ট গ্রেগরিজ, সেন্ট জোসেফ ও নটরডেমসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, ভূমি ও সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয়ে যৌক্তিক সমস্যাগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরতে সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও উদ্যোগী হতে হবে।
রাষ্ট্রপতি জানান, রাষ্ট্রপতি ভবনের দরজা দেশের সব নাগরিকের জন্য সবসময় উন্মুক্ত। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা ও বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মিজ্ আন্না মিন্জ, নটরডেম কলেজের প্রিন্সিপাল ফাদার হেমন্ত রোজারিও, নটরডেম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ফাদার চার্লস, হলিক্রস কলেজের প্রিন্সিপাল সিস্টার শিখা গমেজ এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জন গমেজসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেসসচিবও উপস্থিত ছিলেন।