সরকারের কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তথ্য বা ঘটনা ভুলভাবে উপস্থাপন করা সরকার ও গণমাধ্যম—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ভিন্নমত দমনে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, মানুষের অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করার কোনো কারণ নেই, কারণ জনগণের কাছেই শেষ পর্যন্ত জবাবদিহি করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, যে দলই সরকারে থাকুক না কেন, একটি পক্ষ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বর্তমান সরকার কাউকে সেই সুযোগ দেবে না এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।
পারিবারিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে রাজনৈতিক রূপ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা রোধে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য কম খরচে বিদেশগমন ও অভিবাসন সহজ করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতে মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারের সময়ে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিগত সময়ের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, যারা স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে কষ্ট সহ্য করেছেন, তাদের প্রতি সরকার সহনশীল। তবে এখন অতীতের ক্ষোভ ভুলে দেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সরকার গঠনের চার মাসেই দায়িত্বের চাপ অনুভব করছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য প্রায়োগিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শিশু-কিশোরদের নিয়ে সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গণমাধ্যমে প্রত্যাশিতভাবে উঠে আসছে না। এসব কার্যক্রম জনগণের সামনে আরও বেশি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
গ্রামীণ মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।