অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানে কিছু তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের বিষয়ে আরও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে দুদকের সাম্প্রতিক কার্যক্রম তুলে ধরার সময় তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
দুদকের মহাপরিচালক জানান, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০ আগস্ট থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪১ দিনে ১২১টি মামলা দায়েরের অনুমোদন এবং ৬১টি মামলার অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে ৬১টি অভিযান পরিচালনা ও একটি ফাঁদ মামলা করা হয়েছে।
এ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে আদালতের মাধ্যমে ৬৮ ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ২২ জনের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদসহ আলোচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান ও তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের কার্যক্রম চলছে। কিছু ক্ষেত্রে যৌথ তদন্ত দলের মাধ্যমে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষ্য গ্রহণ ও নথিপত্র যাচাই করছেন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধানে পৃথক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। দুদকের কোনো ফাইল আটকে নেই, কোনো মামলার কার্যক্রমও থেমে নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মহাপরিচালক জানান, এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুদকের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কাজ করছে। তবে তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে রয়েছে বা কবে নাগাদ তা সম্পন্ন হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি।
এদিকে জাতীয় সংসদ ভবনের প্লেনারি হলে স্থাপিত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা বা এসআইএস সিস্টেম পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক। এ ঘটনায় কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগেও জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে। দুদক জানিয়েছে, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলাটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।