মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার সংজ্ঞা থেকে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সদস্যদের তীব্র আপত্তির মুখে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি।
পরে আপসের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর নামের আগে ‘তৎকালীন’ শব্দ যুক্ত করে সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।
জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণকারী সংস্থা জামুকাকে না জানিয়েই পাঠ্যপুস্তকে সংজ্ঞা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে এ বিষয়ে অনুমোদনের জন্য জামুকার সভায় তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ও সংস্থাটির চেয়ারম্যান ফারুক-ই-আজম বিষয়টি উত্থাপন করলে সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান।
জামুকার সদস্যরা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর পাশাপাশি তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেছেন। এটি প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস এবং এ ইতিহাস বিকৃত করা যাবে না।
পরে সদস্যদের আপত্তির মুখে দলগুলোর নাম বাদ দেওয়ার পরিবর্তে নামের আগে ‘তৎকালীন’ শব্দ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। পরবর্তীতে সেটিই ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ হিসেবে জাতীয় সংসদে পাস হয়।
জামুকার তৎকালীন সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত জানান, সদস্যদের তীব্র বিরোধিতার কারণেই উপদেষ্টা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, গত বছরের ১০ মে অনুষ্ঠিত জামুকার ৯৬তম সভায় ফারুক-ই-আজম জানান, উপদেষ্টা পরিষদ মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা থেকে ‘মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম’ শব্দগুলো বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। তবে সভায় উপস্থিত সদস্যরা একে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেন।
সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান (বীর-উত্তম), মেজর (অব.) কাইয়ুম খান, মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিবুর রহমান, হাবিবুল আলমসহ অন্য সদস্যরা বলেন, বিদ্যমান আইন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এসব রাজনৈতিক দলের ভূমিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তাই তাদের নাম বাদ দেওয়া সমীচীন হবে না।