চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে (৪২) হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলি ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ স্বপনের ছোট ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় মাসুদ পাহাড়তলি চৌমুহনী বাজারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রথমে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুলি লাগে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে হামলাকারীদের একজন তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পরপর দুই রাউন্ড গুলি করে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপি সূত্র জানায়, মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি প্রয়াত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং বর্তমানে সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
স্থানীয়দের ধারণা, কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। নিহত মাসুদ একাধিক বালুমহালের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন বলে জানা গেছে।
নিহতের ভাই ও বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ স্বপন বলেন, ওষুধ কিনতে বাজারে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা তার ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দলীয় নেতা-কর্মীরা ইছাখালী এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ কর্মীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন বলেন, মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাউজানে এ পর্যন্ত ২৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।