শেরপুরে ব্রিফিংয়ে পিবিআই
ঘাসক্ষেতে পড়ে থাকা মাথাবিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত মরদেহ দেখে পরনের ট্রাউজার ও জুতা দিয়ে নিজের ছেলে আল আমিনকে শনাক্ত করেন বাবা সাইফুল ইসলাম। গত ১৮ মে বিকেলে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় গ্রামে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে পিবিআই জামালপুর কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির জেলা পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে শুভ ও সম্রাট নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, তদন্তে জানা যায় আল আমিন ও শুভ বন্ধু ছিলেন। শুভর সঙ্গে আল আমিনের বোনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটির আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। এরপর শুভর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
তদন্ত অনুযায়ী, সম্প্রতি আল আমিন টাকা দেওয়ার বিনিময়ে শুভর কাছে তার বোনকে নিয়ে আপত্তিকর প্রস্তাব দেন। এতে অপমানিত হয়ে শুভ প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুভ তার সহযোগী সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিতে রাজি করায়। গত ১৩ মে দুপুরে কৌশলে আল আমিনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আল আমিন ফোনে ব্যস্ত থাকাকালে শুভ পেছন থেকে তার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ধরে এবং সম্রাট তাকে চেপে ধরে রাখে। পরে ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ঘাসক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
মঙ্গলবার বিকেলে শুভকে শেরপুরের বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর সদর উপজেলার পাথালিয়া সন্ধিক্লাব এলাকা থেকে সম্রাটকে আটক করা হয়। আদালতে শুভ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মোটরসাইকেলের মালিক শান্তকে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।
পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, ঘটনার পর পৃথক টিম গঠন করে ছায়াতদন্ত শুরু করা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।