কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার সুস্পষ্ট নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তাহীনতা কিংবা বৈষম্যের কারণে কোনো মেয়ের স্বপ্ন যেন থেমে না যায়, তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রোববার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সোমবার দিবসটি পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং স্বাধীনভাবে নিজের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আজকের কন্যাশিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নির্মাতা। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ দেওয়া গেলে একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে আরও দৃঢ় অঙ্গীকার করতে হবে। বাল্যবিবাহ ও সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
নারীশিক্ষার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ সম্প্রসারণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি কন্যাশিশু ও নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, বাস্তব জীবনের পাশাপাশি ডিজিটাল পরিসরেও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী এমন একটি নিরাপদ ও সমান সুযোগের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান, যেখানে প্রতিটি মেয়ে নির্ভয়ে চলতে, শিখতে, কথা বলতে এবং নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে। জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে তিনি দেশের সব কন্যাশিশু, অভিভাবক ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।