বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে সুজন আকন নামে এক যুবককে আটক করেছে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বলে দাবি করলেও দলটির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যে এ বিষয়ে ভিন্নতা রয়েছে। ফলে তিনি জামায়াতের কর্মী কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, যে নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে, তিনিই সুজন আকনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়াধীন।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম সাদেকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সুজন আকন সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সৌদি আরবপ্রবাসী ওই ব্যক্তির স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে একা বসবাস করছিলেন। সোমবার রাতে ঘরের একটি কক্ষ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তারা কক্ষে ঢুকে ওই নারী ও সুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। এরপর দুজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও সমঝোতা না হওয়ায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
গৃহবধূর স্বজনদের দাবি, এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় দুজনকে সতর্ক করা হয়েছিল। তারা অভিযোগ করেন, প্রবাসী স্বামী দেশের বাইরে থাকার সুযোগে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ওই নারী জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় এবং সুজন একাধিকবার তার বাসায় এসেছেন।
তবে সুজন আকন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো অনৈতিক কাজে জড়িত ছিলেন না। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
সুজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন জামায়াতের এক সদস্য দাবি করেন, সুজন বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। তবে সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. সেলিম শিকদার বলেন, সুজন সংগঠনের কোনো সদস্য বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি নন।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন বলেন, একই কক্ষে দুজনকে আটকের পর গৃহবধূ সুজন আকনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। অভিযোগের তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।