বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য গোরদান স্তোয়োভিচ। পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ থেকে সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার, সংসদীয় কূটনীতি বৃদ্ধি, প্রতিনিধি দল বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। গোরদান স্তোয়োভিচ বলেন, মন্টিনেগ্রো আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানির সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, তৈরি পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে মন্টিনেগ্রোর বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানান দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য।
পর্যটন খাতে সহযোগিতার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন গোরদান স্তোয়োভিচ। বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে যৌথ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান, অভিবাসন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন বাড়াতে কাজ করছে। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী, নির্মাণশ্রমিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গোরদান স্তোয়োভিচ জানান, মন্টিনেগ্রোর শ্রমবাজারে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবার মতো খাতে বাংলাদেশ থেকে সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শ্রমিকদের চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর করার বিষয়েও উভয় পক্ষ গুরুত্ব দেয়।
এ ছাড়া আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাল্টিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে মন্টিনেগ্রোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।