সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ওই সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর তথ্য জানান।
দুদকে জমা পড়া অভিযোগের বরাতে জানা যায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকাকালে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। অভিযোগে ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদায়ন, ১৫০ সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি এবং পদোন্নতির পর পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এটি অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান শুরুর অন্যতম আলোচিত ঘটনা। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
লেখাটিতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সময় উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার, পদায়ন এবং বিভিন্ন নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের আরও বেশ কিছু অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ এবং জেলা প্রশাসক পদায়ন নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের সম্পদ, বিদেশে বিনিয়োগ ও অর্থ পাচারসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিও লেখাটিতে করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা লেখাটিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা, গ্রামীণ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। লেখাটিতে এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। তবে ইউনূসের বিরুদ্ধে উল্লেখ করা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রেও কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্তের তথ্য দেওয়া হয়নি।
সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধেও সাব-রেজিস্ট্রার বদলি, বিচারক বদলি, জেলা প্রশাসক ও সচিব পদায়ন এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নিয়ে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। একইভাবে সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নুরজাহান বেগম ও আদিলুর রহমান খানের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ থাকার কথা লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখাটির মূল বক্তব্য হলো, শুধু আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে লেখাটিতে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বেশিরভাগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে এসব অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে না দেখে তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।