সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুলেছেন তার সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমান।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি প্রতিবাদ করলে প্রথমে তাকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে তাকে ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ বছর সঙ্গে থাকলে তার জীবন বদলে যাবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ওবায়দুর জানান, তিনি অর্থের প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও তরুণীর নিরাপত্তা এবং অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করে গাড়িচালকের কাজ করতে রাজি হন।
তার দাবি, গত ১৮ জুন তিনি প্রথম ওই তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। পরদিন তরুণীর সঙ্গে কথা বললে সে বিষয়টি স্বীকার করে। পরে ২০ জুন তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে কথা বললে তিনি সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন বলেও দাবি করেন ওবায়দুর।
ওবায়দুর আরও দাবি করেন, ২২ জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপ এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন তিনি। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউসে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীর অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে ওই রাতে তরুণীকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে যান তিনি। পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগের পর খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামে একজনের সঙ্গে দেখা হয় বলে জানান ওবায়দুর।
ওবায়দুরের দাবি, ওই রাতে বাসায় ফেরার পর তরুণীর বাবা ও আমিনুর তার ওপর হামলা চালান এবং গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
ওই ঘটনার পর ২১ জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন বলে জানান তিনি। মামলাটি পরে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে আদালত তাদের জামিন দিয়েছেন বলেও দাবি করেন ওবায়দুর।
এদিকে ২ আগস্ট ওবায়দুরের বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তার বোন ও ওই তরুণীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর আরও অভিযোগ করেন, মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার মা ও পরিবারের সদস্যদেরও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান ওবায়দুর।
উল্লেখ্য, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। পরে গাজী নজরুল ওই তরুণীকে তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলে দাবি করেন। তরুণীটি ওবায়দুর রহমানের আত্মীয়।
এর আগে গাজী নজরুল অভিযোগ করেছিলেন, ১৩ জুলাই ওই তরুণীর বাবার অফিসে ওবায়দুর তাকে জিম্মি করে এক লাখ টাকা নিয়েছেন এবং ভিডিওটি তিনিই ফাঁস করেছেন।
ওবায়দুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।