জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কথা বলে কয়েকজন নারীকে ডেকে এনে পরে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে আয়োজকদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বর থেকে এনসিপির চার অঙ্গসংগঠন—জাতীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, শ্রমিকশক্তি ও নারীশক্তির ব্যানারে মিছিলটি বের হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পাঁচ রাস্তার মোড়ে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিল শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর এলাকার সাহারা খাতুন বলেন, তাকে প্রশিক্ষণের জন্য পৌরসভায় নিয়ে আসা হয়েছিল। সেখানে এসে তিনি জানতে পারেন মিছিল হবে। তার ভাষায়, ‘ট্রেনিংয়ের জন্য নিয়ে আইছে, এখন দেখছি মিছিল।’
আরেক নারী জানান, তাকে শুধু পৌরসভায় আসতে বলা হয়েছিল। কী কারণে সেখানে যেতে হবে বা কোনো কর্মসূচি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আগে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পরে ওই দুই নারীর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আগে থেকেই মিছিলের বিষয়ে জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সদস্য রাসেল পারভেজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা বলেন, এটি এনসিপির কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি নয়; দলটির অঙ্গসংগঠনগুলো এ আয়োজন করেছে। তিনি আরও বলেন, তারা এ ধরনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না এবং বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা হয়েছে। কেন্দ্র এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে জাতীয় নাগরিক কমিটির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সদস্য রাসেল পারভেজ, সাবেক যুগ্ম সমন্বয়ক মো. তাছের, যুবশক্তির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব সুরুজ হোসেন সম্রাট, ছাত্রশক্তির জেলা শাখার সদস্যসচিব মখলেচুর রহমান আয়াসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।