জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৮০ দিন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারকেন্দ্রিক উন্নয়ন দর্শনের অংশ হিসেবে নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পে ৩৬টি ইউনিটের ৬০ হাজার ৪৮ জন পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে ৮ বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলায় এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৮ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যাতে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩৯৬টি গির্জার কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ সুবিধা সব উপাসনালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে জনগণের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার বাসিন্দারা এ সুবিধা পাবেন।
পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১৬ মার্চ থেকে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বর্তমানে ৬৬৬টি খালে মোট ১ হাজার ৬৩৫ কিলোমিটার এলাকায় কাজ চলছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
শিক্ষা খাতে আগামী অর্থবছরে দুই লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। পাশাপাশি ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ১৮০ দিনের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তরুণদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে জামানতবিহীন শিক্ষাঋণের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
ক্রীড়া খাতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় উন্মুক্ত খেলার মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড কার্যক্রমও চালু হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টার কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং বাংলাদেশে পেপ্যাল সেবা চালুর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তরগুলোতে ২ হাজার ৮৭৯টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।