বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। একই সঙ্গে জনগণকে ক্রীতদাসে পরিণত করাও সম্ভব হয় না।
‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে গণতন্ত্রের জন্য জীবনদানকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন দেশে এখনো একদলীয় শাসন ও দুঃশাসনের প্রভাব রয়েছে। বাংলাদেশেও দীর্ঘ সময় নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগও তুলে ধরেন রিজভী।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গণতন্ত্রকে স্থায়ী ও শক্তিশালী করতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন রিজভী। তার মতে, সর্বজনীন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, নারী-পুরুষসহ সব মানুষের সমান অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কোনো ধরনের বৈষম্য নয়, বরং সবার জন্য সমান আইনি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
রিজভী বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর এখন কার্যকর ও টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।