অনলাইন ব্যবসা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির জন্য পৃথক ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে শেরপুর-১ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য এম রাশেদুল ইসলাম রাশেদের উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ই-কমার্স একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল খাত। প্রস্তাবিত কর্তৃপক্ষ গঠিত হলে নিবন্ধিত মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানিসহ অনলাইন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও কঠোরভাবে তদারকি করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, কোভিড-১৯ মহামারির আগে ও পরে দেশে অনলাইন ব্যবসার দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে। এ খাতকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতি, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকাসহ বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউ-কম, ধামাকা শপিং ও আলিশা মার্টসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে মোট ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে আর্থিক দাবির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০২২ সাল পর্যন্ত অনলাইন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও তদারকির জন্য পৃথক কোনো আইনগত কর্তৃপক্ষ ছিল না। পরবর্তীতে ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা জারি করে নিবন্ধনের দায়িত্ব আরজেএসসিকে দেওয়া হয়।
এ পর্যন্ত আরজেএসসি প্রায় ১ হাজার ৯০২টি অনলাইন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল নিবন্ধন দিয়েছে।
অনলাইন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ৫৩১ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা প্রকৃত ভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি অর্থ যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট ভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।