কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে চরসাদিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. আবু তালেব হোসাইনের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে তিনতলা ফাউন্ডেশনের ওপর একতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার চরসাদিপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মৌজায় সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত প্রায় ২ একর ৮২ শতাংশ জমিতে চলতি বছরের মে মাসের দিকে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন আবু তালেব। স্থানীয়দের দাবি, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি হিসেবে পরিচিত।
ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গোবিন্দপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের একটি দাগে সরকারের ‘খ’ তফসিলভুক্ত জমি রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জমির মালিকানা নিয়ে আবু তালেবের সঙ্গে সরকারের বিরোধ রয়েছে। তিনি জমিটিকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে ২০১৮ সালে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করেন। ২০২৪ সালের ৫ মে মামলাটি খারিজ হলে তিনি পরে আপিল করেন। বর্তমানে সেই আপিল মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আবু তালেব হোসাইন বলেন, জমিটির আরএস রেকর্ড তার নামে হয়নি, তবে তার বিএস রেকর্ড রয়েছে। রেকর্ড সংশোধনের মামলা চলমান থাকায় বিষয়টি এখন আদালতের এখতিয়ারে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানিয়েছেন, খাস জমিতে বাড়ি নির্মাণের সুযোগ নেই। জমিটির মালিকানা ও আইনি অবস্থা প্রশাসনের নজরে রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে মাপজোখে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরেজমিন পরিদর্শনের পর নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে। জমির দাগ ও মালিকানা যাচাইয়ে মাপজোখের পর বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও তিনি জানান।