আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাখাতে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হতে পারে, যা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।
সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে শক্তিশালী ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ, এপ্রেনটিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং স্টার্টআপ কার্যক্রমে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশে থাকা দক্ষ ও উচ্চশিক্ষিত বাংলাদেশিদের শিক্ষা ও গবেষণা খাতে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকার ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানিজ, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও জার্মানের মতো তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তৃতীয় ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধাও দেওয়া হবে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ সরবরাহ, প্রতিবন্ধী শিশুদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক প্রযুক্তি নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।
জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।