বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বিরোধী দল আগের মতোই রাজনৈতিক ভাষা ব্যবহার করছে। তার অভিযোগ, ‘হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত, বিরোধী দলও সেই ভাষায় কথা বলছে।’
রোববার (৯ আগস্ট) রংপুরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডির উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় ২৫টি দুস্থ পরিবারের মধ্যে চা-ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র চার-পাঁচ মাস হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, এসব কাজ একদিনে করা সম্ভব নয়। কারও হাতে ‘আলাদিনের চেরাগ’ নেই। অথচ বিরোধী দলের বক্তব্যে মনে হচ্ছে, সবকিছু তাৎক্ষণিকভাবে করে ফেলতে হবে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে নতুন তেল-গ্যাসের খনি অনুসন্ধানে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাপেক্সকে প্রায় অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে সক্রিয় করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশের তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং এর প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। সরবরাহ কিছুটা কমলেও সরকার একদিনের জন্যও মানুষকে তেল-গ্যাস থেকে বঞ্চিত হতে দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আমদানি ব্যয় ও জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দামও বেড়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি পণ্যের দাম বাড়লে তার প্রভাব অন্য অনেক পণ্যের ওপর পড়ে। তাই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সমস্যার মূল কারণগুলো বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। এ সময় সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।