কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিমতলীতে এশিয়াটিক সোসাইটি আয়োজিত ‘এআই গভর্ন্যান্স সামারি স্কুল’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, এআই আইন প্রণয়নের খসড়া তৈরিতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ প্রয়োজন। তাদের মতামত পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন করে খসড়াটি বিল আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
বিচার বিভাগে এআই ব্যবহারের ঝুঁকি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় বিচারিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। এআইয়ের অপব্যবহার ও নতুন ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিচারকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এআই ব্যবহার করে মিথ্যা জবানবন্দি তৈরি এবং ছবি বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে ভুয়া প্রমাণ তৈরি করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ রয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত বিচারপ্রার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
তিনি আরও বলেন, কোনো রায় কারও পক্ষে না গেলে বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি কিংবা এআইনির্ভর অপপ্রচার চালানোর আশঙ্কাও রয়েছে। একই সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও এ ধরনের প্রযুক্তির কারণে নতুন সামাজিক ও আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
সোসাইটি ফর জাস্টিস অ্যান্ড এআই (এসজেএআই) ও লিগ্যালাইজড এডুকেশন বাংলাদেশ লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় পাঁচ দিনব্যাপী সামার স্কুলটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার, অর্থসেবা, স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসনে এআই গভর্ন্যান্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। পরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।