২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এটি শুধু বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর একটি রূপরেখা।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি সংসদ শুরু হওয়ার পর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে সংসদ। তিনি বলেন, অতীত নয়, ভবিষ্যৎ নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে এবং দেশের ২০ কোটি মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে হবে।
তিনি জানান, বাজেট উপস্থাপনের দিনই ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যার ফলে বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে এবং জনগণ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার একটি ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকে যাত্রা শুরু করেছে, যেখানে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, লুটপাট এবং ব্যয়বহুল প্রকল্পের কারণে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার হয়েছে এবং রিজার্ভও কমে গিয়েছিল, তবে সরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব নীতির ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলও তা স্বীকৃতি দিয়েছে।
সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে তিনি বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন। এ লক্ষ্যে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে—প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব সংস্কার ও ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, এবং তৃতীয় ধাপে উদ্ভাবননির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, জিডিপি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন হয় না; বরং উন্নয়নের সুফল তখনই অর্থবহ হয় যখন কৃষক ন্যায্য মূল্য পান, সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে থাকে এবং তরুণরা কর্মসংস্থান পায়।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা এবং রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।