পাবনায় পদ্মা নদীর তীরে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা কিশোরীর হত্যার রহস্য মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লাশ গুমে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রেজিনূর রহমান এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন—পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মৃত কাশেম প্রামানিকের ছেলে ও প্রধান অভিযুক্ত মো. নাঈম, মো. শফিক শেখের ছেলে মো. ইয়াসিন শেখ এবং মো. শিমুল প্রামানিকের ছেলে মো. তুহিন প্রামানিক (১৭)।
পুলিশ জানায়, নিহত কিশোরীর নাম রিয়া খাতুন (১৫)। সে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মো. আজিজুল প্রামানিকের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
তদন্তে জানা গেছে, চাচাতো ভাই নাঈমের সঙ্গে রিয়ার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর্থিক লেনদেন ও সম্পর্কের টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ১১টার দিকে রিয়া নাঈমের বাসায় গেলে সেখানে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা তীব্র বিরোধে রূপ নেয় এবং নাঈম তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
পরে হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে নাঈম তার সহযোগী ইয়াসিন ও তুহিনকে ডেকে নেয়। তারা মরদেহ একটি সাদা প্রাইভেটকারে করে পদ্মা নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে ফেলে রেখে আসে।
পুলিশ আরও জানায়, অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধারের পর জেলা পুলিশের একাধিক ইউনিট ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।