সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারে কমিশন এবং বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ১১টি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগগুলোতে উন্নয়ন প্রকল্প, সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, টেন্ডার, সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং নিয়োগে অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগের একটি অংশে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে কমিশন নেওয়া হতো। টেন্ডার কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত নয়।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগেও ১০ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে অর্থ লেনদেন এবং নিয়মিত কমিশনের শর্তে নিয়োগ দেওয়ার দাবি রয়েছে অভিযোগে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে বদলি ও পদায়ন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কয়েকটি প্রকল্পে কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং পদোন্নতি ও পদায়নে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে দায়িত্ব ছাড়ার আগ পর্যন্ত জনপ্রশাসনের বিভিন্ন বিষয়ে আসিফ মাহমুদ প্রভাব বিস্তার করতেন। জেলা প্রশাসক নিয়োগে তার দেওয়া একাধিক ডিও লেটারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
তার সাবেক এপিএস মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও অর্থ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থান করে আসিফ মাহমুদের সম্পদ দেখভাল এবং ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার দাবিও করা হয়েছে।
আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনের সময় তার বাবা বিল্লাল হোসেনের প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত করার বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হলেও এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংরক্ষণ এবং দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে সম্পদ ও বিনিয়োগের অভিযোগও করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার। তবে এসব দাবির পক্ষে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
এর আগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব করেছিল। পরে তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তার দুটি ব্যাংক হিসাবে মোট প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ছিল।
দুদকের অনুসন্ধানে এরই মধ্যে আসিফ মাহমুদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে দুদকের অনুসন্ধান ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।