বাংলাদেশের একটি আলোচিত খুনের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রকাশ্য জনসভায় করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি বিতর্কে জড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রীর বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।
রিঙ্কি সিংয়ের অভিযোগ, বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক গোপনীয়তার প্রশ্ন তৈরি করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২ জুন কলকাতার ধর্মতলায় এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা থেকে ওই হত্যাকাণ্ড ও তদন্তে ভারতীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং বক্তব্যটি উসকানিমূলক বলে দাবি করা হয়েছে।
ভারতের একাধিক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় ওসমান হাদি নামের এক ব্যক্তি খুন হন। তদন্তে অভিযুক্ত কয়েকজনের মেঘালয় সীমান্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের তথ্য পাওয়া যায়। পরে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে বলে দাবি করা হয়েছে।
ধর্মতলার ওই সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল।’ যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও এই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগপত্রে একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বক্তব্যের মাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানো, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং ভীতি সৃষ্টির উপাদান রয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।