ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবার টিপসই নিয়ে জাল কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচিত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে ফুলবাড়িয়া থানায় অভিযোগ জমা দেন ৪৩ বছর বয়সী ওই নারী। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান। তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অভিযোগে ওই নারী জানান, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবদুস ছাত্তার তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহ করেন। পরে কৌশলে একটি ফাঁকা কাগজে তাঁর টিপসই নেওয়া হয়। সেই টিপসই ব্যবহার করে জাল কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম উল্লেখ রয়েছে। এতে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা লেখা হয়েছে। তবে কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা সাইফুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ওই বিয়ের সাক্ষী ছিলেন না।
কাবিননামায় বিয়ে সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ থাকা কাজি গোলাম মোস্তফাও জানিয়েছেন, তিনি এ বিয়ে পড়াননি। তাঁর দাবি, স্বাক্ষর ব্যবহার করে জাল কাগজ তৈরি করা হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালেও একই ধরনের জাল কাগজ তৈরির ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বলে জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুস ছাত্তার। তাঁর দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি ওই নারীর কাছ থেকে কোনো টিপসই নেননি। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক বলেন, আবদুস ছাত্তার দলটির কোনো পদধারী নেতা নন। বিগত নির্বাচনের সময় তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন এবং আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর আগে স্থানীয়ভাবে দুই দফা সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস সেখানে উপস্থিত হননি। সালিসে নেতৃত্ব দেওয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সালিসের মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা রয়েছে।
প্রায় ১৩ বছর আগে স্বামীকে হারানো ওই নারী দুই ছেলেকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ডের নামে টিপসই নেওয়ার পর তাঁর বিয়ে হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার করা হলে তিনি আপত্তি জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সালিসের পর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।