হাসপাতালের ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। প্রতিদিন বহির্বিভাগে এক হাজারের বেশি রোগী এবং ভর্তি হচ্ছেন ১২০ থেকে ১৫০ জন। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে আকস্মিকভাবে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের দুর্ভোগ সরেজমিনে দেখেন মন্ত্রী। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে প্রধানমন্ত্রী পাঠিয়েছেন। আমি খালি হাতে আসিনি।’ তিনি জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হবে।
হাসপাতালে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা চালুরও ঘোষণা দেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০টি শয্যা ও ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এ সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ২০ জন রোগী ডায়ালাইসিসের সুযোগ পাবেন বলে জানান মন্ত্রী।
মাতৃ ও নবজাতক সেবা সম্প্রসারণে প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০টি এবং নবজাতকদের জন্য আরও ২০টি শয্যা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পাঁচজন মেডিকেল কর্মকর্তা, চারজন নার্স, একজন মিডওয়াইফ, একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট ও একজন রেডিওগ্রাফার নিয়োগের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি একজন বাবুর্চি ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
এ ছাড়া উন্নত প্যাথলজি সেবা ও ফিজিওথেরাপি সেন্টার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। নারী ও পুরুষ রোগীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নারী ও পুরুষ চিকিৎসক দেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী।
পটিয়া হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের দাবির বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই আইসিইউ চালু করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার পর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে পটিয়ার পাঁচুরিয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রও পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। কেন্দ্রটির জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে এটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এ সময় পটিয়া হাসপাতালের জন্য ৫০টি রেবিস ভ্যাকসিন, ৫০টি রেবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন, ১৫০টি ডায়রিয়ার স্যালাইন এবং ২০টি অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এবং ১২০ থেকে ১৫০ জনের মতো রোগী ভর্তি হন। পটিয়াসহ আশপাশের পাঁচ উপজেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা হওয়ায় এখানে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পিএস এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকারসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।