বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে ‘সিভিল এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যানিং ওভারভিউ’ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচালনার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজামান মিল্লাত।
রোববার (২১ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই বিমান পরিবহন ব্যবস্থা জাতীয় উন্নয়নের অপরিহার্য ভিত্তি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম পূর্বশর্ত।
তিনি বলেন, বিমান পরিবহন এখন শুধু যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের মাধ্যম নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পর্যটন বিকাশ, যোগাযোগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশকে ভবিষ্যতে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে একটি কার্যকর এভিয়েশন মহাপরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজামান মিল্লাত বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচালনার প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর ও আধুনিকায়নের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কর্মশালায় দেশের বিমান চলাচল খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।