আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের অপেক্ষা না করে আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন নাম আলোচনায় থাকলেও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নিয়মিত বা বিশেষ সংসদ অধিবেশন বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক সংকটের সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলীয় সীমার বাইরে গ্রহণযোগ্যতার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন।
তবে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মন্ত্রিসভা ও বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসবে। সে ক্ষেত্রে তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে এবং বিএনপির মহাসচিব পদেও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন প্রস্তুত রয়েছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা পাওয়ার পর তফসিল ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।