দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে আমদানির ক্ষেত্রে আগাম অর্থ পরিশোধের নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিদেশি ব্যাংকের গ্যারান্টি ছাড়াই আমদানিকারকরা বিদেশে আগাম অর্থ পাঠাতে পারবেন। একই সঙ্গে এলসির (লেটার অব ক্রেডিট) বাইরে বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থার ব্যবহারও উৎসাহিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের কাছে পাঠিয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদেশি ব্যাংকের রিপেমেন্ট গ্যারান্টি থাকলে আমদানির বিপরীতে যেকোনো পরিমাণ আগাম অর্থ পরিশোধ করা যাবে। তবে এখন থেকে এডি ব্যাংকগুলো বিদেশি ব্যাংকের কোনো গ্যারান্টি ছাড়াই সাধারণ অনুমোদনের আওতায় সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থ বিদেশে আগাম পাঠাতে পারবে। অন্যদিকে রপ্তানিকারকদের রিটেনশন কোটা বা ইআরকিউ (Exporters’ Retention Quota) হিসাব থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত আগাম অর্থ পাঠানোর সুযোগ থাকবে।
নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ বিদেশি ব্যাংকের গ্যারান্টি ছাড়া আগাম পরিশোধ করতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। জরুরি প্রয়োজন হলে ব্যাংকগুলো অফিস চলাকালীন সময়ে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবে এবং পূর্ণাঙ্গ আবেদন পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এলসি এখনও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও বিশ্বজুড়ে ওপেন অ্যাকাউন্ট ট্রেড, ডকুমেন্টারি কালেকশন, সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স এবং ফ্যাক্টরিংয়ের মতো বিকল্প অর্থায়ন পদ্ধতির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এ কারণে দেশের ব্যাংকিং খাতেও এসব পদ্ধতির ব্যবহার ধীরে ধীরে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালার আওতায় রপ্তানিকারকরা এখন থেকে ওপেন অ্যাকাউন্ট ভিত্তিতে পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন। পাশাপাশি ডকুমেন্টারি কালেকশন পদ্ধতিতে আমদানি ও রপ্তানি লেনদেন পরিচালনার সুযোগও আরও বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া ব্যাংকগুলোকে রিভার্স ফ্যাক্টরিং, সাপ্লায়ার ফাইন্যান্সিং এবং বায়ার ফাইন্যান্সিংয়ের মতো আধুনিক সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স সুবিধা চালুর জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে দেশের ব্যাংকগুলোকে ডিজিটাল ট্রেড প্রসেসিং এবং ইলেকট্রনিক নথি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এসব ক্ষেত্রে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা, অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।