জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেছেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখা কঠিন হবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নলমুড়ি ইউনিয়নের জয়ন্তী নদীর ওপর প্রস্তাবিত নলমুড়ি-কুচাইপট্টি সংযোগ সেতুর সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ অপু বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে সমাজব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মাদকের বিস্তার শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।
জয়ন্তী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ প্রকল্পের অনুমোদন ইতোমধ্যে হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শুরু হবে। পাশাপাশি খুনেরচর-আবুপুর হয়ে বরিশালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে আরও একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডামুড্যা উপজেলার তালতলা এলাকায়ও জয়ন্তী নদীর ওপর আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, গোসাইরহাটবাসী প্রথমবারের মতো নিজেদের এলাকার একজন সন্তানকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। শরীয়তপুরকে উন্নত ও সমৃদ্ধ জেলায় পরিণত করতে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক প্রকল্প প্রসঙ্গে হুইপ অপু বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হবে। এরপর দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। এছাড়া শরীয়তপুর-নাওডোবা-জাজিরা সড়কের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত অধিকাংশ জটিলতা ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। অবশিষ্ট সমস্যারও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), শরীয়তপুরের বাস্তবায়নে ‘ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প (২য় সংশোধিত)’–এর আওতায় সামন্তসার ও ইদিলপুর ইউনিয়নের চারটি সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন হুইপ অপু।
অনুষ্ঠানে জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রাফেউল ইসলাম, গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুশরাত আরা খানম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।