পটুয়াখালীর বাউফলের দুর্গম চরাঞ্চল চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায়সাহেব বাজারে বিএনপি, জামায়াত ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি সোহাগ, ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল এবং আল-আমিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে লালচরে মহিষের পালে জেলেদের মাছ ধরার চাই নষ্ট হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের মীমাংসায় চর রায়সাহেব বাজারে সালিস বৈঠক বসে। বৈঠকে জামায়াত নেতা সোহাগ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুলসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সালিস চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতি ও পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শাহিন রাড়ি, মাঈনুদ্দিন, সোহেল রাড়ি, মামুন, ইউনুস, মমতাজ ও রানী বেগমসহ সাতজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, শাহিন রাড়ির মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
হামলার শিকার মাঈনুদ্দিন অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতা সোহাগ ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুলের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন তাদের ওপর হামলা চালান। আহত শাহিন রাড়ি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার কাছ থেকে জমি বিক্রির ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।
তবে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেন, লালচরে মহিষ পালনকারীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সালিসে কথা বলার সময় অপর পক্ষ উত্তেজিত হয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, মারামারির ঘটনায় মাঈনুদ্দিন বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।