চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার শ্যালক ও গাড়িচালকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) রাতে তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরও ১–২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি এজাহার দাখিল করা হয়। অভিযোগে হামলা, মারধর, গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্য আমির হামজা পৃথক গাড়িতে ছিলেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী, দুই সন্তান ও শ্যালক আবু বক্কর সিদ্দিক একই গাড়িতে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে কর্মসূচি শেষে জীবননগরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হাসাদাহ বাজারের প্রধান সড়কের সংযোগস্থলে একটি ইজিবাইক দাঁড়িয়ে থাকায় তাদের গাড়ি থেমে যায়।
বারবার হর্ন দেওয়ার পরও ইজিবাইকটি না সরায় গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেন নিচে নেমে চালককে অনুরোধ করেন। এ সময় কথাকাটাকাটির সূত্রে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে আবু বক্কর সিদ্দিকও এগিয়ে যান, পরে সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি জড়ো হয়ে তাদের পথরোধ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত মোস্তাক হোসেন প্রথমে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। পরে রিমন হোসেন আবু বক্কর সিদ্দিকের চোখের নিচে ঘুষি মারেন এবং মাশরুল মুহিব নাকের ওপর আঘাত করেন। এরপর দলবদ্ধভাবে আবু বক্কর সিদ্দিক ও গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেনকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে থাকা সংসদ সদস্যের স্ত্রী নিজের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার কিছু সময় পর পেছনে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। আহতরা পরে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে সংসদ সদস্যের স্ত্রী তামান্না সুলতানা তানি, মনিরা সুলতানা সনি এবং ইমরান হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় অনেকেই ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।