প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে সনাতনী ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বের করে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদে সরকারের কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিকে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃষক নিবন্ধন, কৃষক ডাটাবেজ, ডিজিটাল কৃষি সেবা, মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, ই-এক্সটেনশন সেবা এবং অনলাইন কৃষি প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষকদের কাছে সরকারি সেবা সরাসরি পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় কমানো, শ্রম সংকট মোকাবিলা এবং কৃষিকে আরও লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ড্রোন প্রযুক্তি, জিআইএস, স্যাটেলাইট তথ্য ও বিগ ডাটার ব্যবহার সম্প্রসারণ করছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, রোগ শনাক্তকরণ, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন পরিকল্পনা আরও কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক হবে।
তিনি বলেন, প্রিসিশন এগ্রিকালচার চালুর মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়ানো হবে। পাশাপাশি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষি খাতকে পুনর্বিন্যাস ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈব সার, বায়োফার্টিলাইজার এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে জলবায়ু-সহনশীল ও অভিযোজনক্ষম খাতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে দেশের কৃষি আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক, রপ্তানিমুখী ও টেকসই খাতে পরিণত হচ্ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।