ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সংকটের সময় শিল্পকারখানা যাতে গ্যাসের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে নতুন একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংকটকালীন সময়ে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইপিজেড ও বিসিকের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সংসদ নেতা বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এসব উদ্যোগের আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
আমদানি-নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বিশেষ সুবিধার কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেসব গ্রাহক নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা মূল্য পাবেন।
সরকারি প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সমীক্ষা, বাস্তবায়নের প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করা এবং প্রকল্পের কাজে নিবিড় তদারকি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া মেগাপ্রকল্পগুলোর অতিরঞ্জিত ব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। কয়েকটি প্রকল্পের তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় কমিয়ে জনগণ যাতে কম খরচে সর্বোচ্চ সুবিধা পায়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও দুঃশাসন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রকাশিত শ্বেতপত্রকে ভিত্তি করে বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।