প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও জাতীয় স্বার্থের অবস্থানকে তুলে ধরেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তেজগাঁওয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়িয়ে দেশের স্বনির্ভরতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি ও সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও জোরদারের প্রত্যয়ও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব বৈঠকে জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয় আলোচনায় আসে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, মানবিক রাষ্ট্র গঠন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও বাংলাদেশের অবস্থান ও প্রস্তাব বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে এসব বৈঠককে তিনি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের বক্তব্যের বিষয়বস্তু বিশ্বপরিসরে ছড়িয়ে পড়েছে। তার দাবি, সফরে প্রধানমন্ত্রী ও সফরসঙ্গীরা বিপুলসংখ্যক বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরকালে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। নারী নেতৃত্ব, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীসেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি বাংলাদেশের অবস্থান ও উদ্যোগ তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরকালে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে।