রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার পর দল পুনর্গঠনে আরও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলীয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় দপ্তরসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব আনা এবং দায়িত্বে রদবদলের পরিকল্পনা রয়েছে।
দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চে সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে জেলা, উপজেলা ও মহানগরসহ বিভিন্ন ইউনিটে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে তরুণ, মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক দায়িত্বে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জেলা, মহানগর বা উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ সাংগঠনিক পদে না রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
একই সঙ্গে ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতি কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এর মাধ্যমে সরকারি দায়িত্ব ও দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে চায় বিএনপির নেতৃত্ব।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে বর্তমানে তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যু, পদত্যাগ ও বহিষ্কারের কারণে ভাইস চেয়ারম্যানের ১২টি পদও শূন্য রয়েছে। এসব পদে নতুন নেতৃত্ব আনার উদ্যোগ চলছে।
কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বে যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও সৈয়দ এমরান সালেহ—এই তিনজনের মধ্যে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।
এদিকে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও শ্রমিক দলসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতৃত্বেও পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। আগস্টের শেষ দিকে অথবা আগামী মাসের শুরুতে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জানান, দল পুনর্গঠনের কাজ চলমান রয়েছে এবং জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শেষ হবে। বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও থানায় প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও জানিয়েছেন, কাউন্সিল সামনে রেখে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজ চলছে। দেশের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি পুনর্গঠনের পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করা হবে।
তবে ভাইস চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ পর্যায়ের শূন্য পদগুলোতে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।